Sonar Kellay Jawkerdhan Bengali Movie Review (2025)
Sonar Kellay Jawkerdhan Bengali movie

Invisible treasure and strange mysteries: “Jokordhon in Sonar Kella” brings back the taste of Bengali adventure–thriller.

রাজস্থানের মরুভূমি, প্রাচীন সোনার কেল্লা আর হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের সন্ধানে নামছে একদল বাঙালি অভিযাত্রী—‘Sonar Kellay Jawkerdhan’ নতুন প্রজন্মের জন্য ফিরিয়ে আনছে ক্লাসিক অ্যাডভেঞ্চারের রোমাঞ্চ, একেবারে বড়পর্দার স্কেলে।

বাংলা মেইনস্ট্রিম সিনেমায় অ্যাডভেঞ্চার–থ্রিলার ঘরানার ছবি এখনো হাতে গোনা। ঠিক সেই জায়গাতেই ‘Sonar Kellay Jawkerdhan’ 

দর্শকের মধ্যে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে। নাম শুনলেই অনেকে স্বাভাবিক ভাবেই সত্যজিৎ রায়ের আইকনিক ‘সোনার কেল্লা’র কথা ভাবেন, 

তবে এই ছবিটি সেই গল্পের রিমেক নয়; বরং সম্পূর্ণ আলাদা প্লট, যেখানে প্রাচীন রাজস্থানি ফোর্ট–টাউনকে কেন্দ্র করে এক আধুনিক ট্রেজার–

হান্টের কাহিনি তৈরি হয়েছে। ছবিটি ২০২৫ সালের অন্যতম আলোচিত ও সফল বাংলা ছবির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে,

 আর এখনও OTT–র কল্যাণে নতুন দর্শক অর্জন করে চলেছে।

কাহিনি: হারিয়ে যাওয়া জওকর্দনের খোঁজ

‘Sonar Kellay Jawkerdhan’–এর গল্প শুরু হয় কলকাতায়—এক তরুণ ইতিহাস–গবেষক, তার বন্ধু–ফটোগ্রাফার আর এক ধূর্ত কিন্তু স্নেহময় গাইড–চরিত্রকে নিয়ে।

 তারা জানতে পারে, রাজস্থানের এক প্রাচীন সোনার কেল্লায় লুকিয়ে আছে ‘জওকর্দন’ নামের কিংবদন্তি ধন—যা নাকি সাম্রাজ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। 

ধন খোঁজার সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসে বহু পুরোনো ষড়যন্ত্র, একটি দেশি–ইন্টারন্যাশনাল স্মাগলার গ্যাং এবং কেল্লার ভেতরের গোপন টানেল–পথের রহস্য।

গল্পের টোন একদিকে রহস্য–থ্রিলার, অন্যদিকে মজার ট্রাভেল–অ্যাডভেঞ্চার। শৈশবের টিনটিন–কিম্বা ফেলুদে পড়া প্রজন্মের কাছে এই ঢঙ একেবারে চেনা,

 কিন্তু এখানে চরিত্রগুলো একেবারে আজকের—ওয়েব–রিসার্চ, ড্রোন–শট, হ্যাকড সিসিটিভি—এসবও তাদের investigation–এর অংশ।

Boldest release

চরিত্র ও অভিনয়

ছবিতে নায়ক–নায়িকা দুজনেই শহুরে, স্বপ্নবাজ চরিত্র; একজন ইতিহাস–মগ্ন, অন্যজন বাস্তববাদী। তাদের মধ্যে কথার লড়াই, 

হালকা রোম্যান্স আর বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে একে অপরকে সামলে নেওয়ার chemistry পুরো ছবিটাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। গাইড চরিত্রটি অনেকটা comic relief,

 কিন্তু প্রয়োজনে সে–ই হয়ে ওঠে স্থানীয় “ইনসাইডার”, যে দর্শককে কেল্লার ভেতরের গোপন দুনিয়া দেখায়।

ছবিতে নায়ক–নায়িকা দুজনেই শহুরে, স্বপ্নবাজ চরিত্র; একজন ইতিহাস–মগ্ন, অন্যজন বাস্তববাদী। তাদের মধ্যে কথার লড়াই, 

হালকা রোম্যান্স আর বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে একে অপরকে সামলে নেওয়ার chemistry পুরো ছবিটাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। গাইড চরিত্রটি অনেকটা comic relief,

 কিন্তু প্রয়োজনে সে–ই হয়ে ওঠে স্থানীয় “ইনসাইডার”, যে দর্শককে কেল্লার ভেতরের গোপন দুনিয়া দেখায়।

বড় আকর্ষণ অবশ্যই ভিলেন–চরিত্র। সে ক্লিশে খলনায়ক নয়; বরং পড়াশোনা–জানা, ক্যালম কিন্তু নিষ্ঠুর—যার কাছে ইতিহাস শুধুই ব্যবসা, 

আর প্রতিটি পুরোনো জিনিসের দাম ডলারে মাপা। এই ভিলেন–নায়ক–দ্বন্দ্বই ছবিকে ক্লাইম্যাক্সে ভালো টেনশন এনে দেয়।

লোকেশন ও ভিজ্যুয়াল ট্রীট

রাজস্থানের ফোর্ট–ল্যান্ডস্কেপ, মরুভূমির সোনালি ঢেউ, নীল আকাশ আর রাতের অন্ধকারে কেল্লার ভেতরের আগুন–আলো—

সব মিলিয়ে ছবিটি ভিজ্যুয়ালি সমৃদ্ধ। অনেক দৃশ্যে ড্রোন–শটে পুরো কেল্লা–চত্বর, শহরের সরু গলি, বাজার–এলাকা ধরা পড়েছে;

 ফলে দর্শক যেন নিজের চোখে ভ্রমণ করে আসছে।

বাংলা ছবিতে সাধারণত এত বড় আকারে আউটডোর ইউনিট কাজ করে না; এই ছবিতে সেটি ভালভাবে ধরা পড়েছে। বাজেটের সীমা থাকা সত্ত্বেও 

art direction ও framing–এর মাধ্যমে একটা “বড় স্কেল”–এর অনুভূতি তৈরি হয়েছে—যা থিয়েটারে দেখলে আলাদা মজা দেয়।

কেন এত জনপ্রিয় হল?

২০২৫–এর বক্স অফিস রিপোর্ট বলছে, কন্টেন্ট–ড্রাইভেন ছবির মধ্যে ‘Sonar Kellay Jawkerdhan’ অন্যতম সেরা ব্যবসা করেছে এবং

 বছরের Top Bengali Films তালিকাতেও জায়গা পেয়েছে। এর কয়েকটি কারণ পরিষ্কার—

 

  • বাংলা দর্শকের কাছে নতুন প্রজন্মের অ্যাডভেঞ্চার–হিরো তৈরি করা।
  • ফ্যামিলি–ফ্রেন্ডলি টোন—সহিংসতা থাকলেও সীমিত, গালাগালি প্রায় নেই।
  • ভ্রমণ–থ্রিল, ইতিহাস আর ধাঁধার সুন্দর মিশ্রণ।

এ ধরনের সাফল্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কেবল রোম্যান্টিক মেলোড্রামা বা ক্রাইম–থ্রিলার নয়, অ্যাডভেঞ্চার–জঁরাও বাংলায় বড় বাজার

 তৈরি করতে পারে—যদি গল্প মজার হয় আর নির্মাণ মানসম্মত হয়। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই ছবির সম্ভাব্য সিকুয়েল 

বা একই ইউনিভার্সে নতুন কেস–ভিত্তিক সিরিজের দাবি তুলছেন।

সব মিলিয়ে, ‘Sonar Kellay Jawkerdhan’ প্রমাণ করেছে—সঠিক কনসেপ্ট আর স্মার্ট এক্সিকিউশন থাকলে বাংলা ছবিও বড় পর্দায় 

আন্তর্জাতিক মানের অ্যাডভেঞ্চার–থ্রিলার উপহার দিতে পারে।

0 Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *