Bengali films prime time rule in West Bengal to boost Tollywood
Bengali films prime time

Bengali films made mandatory in prime time, but challenges still remain.

“বিধিমালা কঠোর হলেও, বাংলা সিনেমার প্রাইম টাইম শো’তে এসে দাঁড়িয়েছে রোড ব্লক; মাল্টিপ্লেক্স মালিকদের আর্থিক ও প্রযোজনা সংকট।”

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, যার মাধ্যমে রাজ্যের সব

সিনেমা হলে বছরে ৩৬৫ দিন বিকেল৩টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রতিদিন অন্তত একটি বাংলা সিনেমা প্রাইম টাইমে

প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে—যার ফলে বাংলা সিনেমার সারাবছর

নিয়মিতভাবে দর্শকেরকাছে পৌঁছানোর পথ সুগম হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নেওয়া এই উদ্যোগ

বাংলা সিনেমার হারানো গৌরব ও জনপ্রিয়তা ফিরিয়েআনার প্রত্যয় বাস্তবায়িত হয়েছে।

Boldest release

তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবি, সারাবছর মানসম্পন্ন বাংলা সিনেমা পাওয়া তাঁদের

পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে প্রতিদিন প্রাইম টাইমে বাংলা সিনেমার শো রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বড় বাজেটের হিন্দি ও দক্ষিণী

ছবির আধিপত্য এবং তুলনামূলকভাবে বাংলা ছবির দর্শক-আকর্ষণ কম থাকায়, অনেক সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই সেই

ছবিগুলো প্রেক্ষাগৃহ থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।

অর্থাৎ, সরকারি নির্দেশনা যেখানে শতভাগ বাস্তবায়নের কথা বলছে, সেখানে সিনেমা হল মালিক ও ডিস্ট্রিবিউটররা পড়েছেন

বাস্তবিক চ্যালেঞ্জের মুখে। তাঁদের বক্তব্য, “নতুন নির্দেশিকা বাংলা সিনেমা প্রদর্শনে সহায়ক হলেও প্রতিদিন মানসম্পন্ন ছবি

পাওয়া এখন সত্যিই কঠিন। ফলে সব প্রেক্ষাগৃহে নিয়মিত প্রাইম টাইমে বাংলা ছবি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।” দর্শক উপস্থিতি

কম থাকলেও মাল্টিপ্লেক্সগুলো সাধারণত প্রথম সপ্তাহে বাংলা ছবিকে প্রাইম টাইমে রাখে। কিন্তু সেই সংখ্যা দ্রুত হ্রাস

পেলে দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই সেই ছবিগুলো প্রাইম টাইমের স্থান হারায়।

টলিউডের শীর্ষ তারকা ও নির্মাতারা—যেমন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব এবং সৃজিত মুখার্জি—এই সমস্যার বিষয়ে

ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন। তাঁদের পাশাপাশি আরও বহু শিল্পী রাজ্য সরকারের মধ্যস্থতার আবেদন করেছেন।

তবুও প্রতিদিন প্রাইম টাইমে বাংলা ছবি প্রদর্শনের নিশ্চয়তা না থাকায় শিল্পীদের আস্থায় কিছুটা ভাটা পড়েছে।

জানা গেছে, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই নতুনভাবে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে। এই বিধিমালা যাতে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত হয়।

বাংলা সিনেমার উন্নয়ন ও সফল প্রদর্শনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের

মাঝেও বাংলা সিনেমার জন্য প্রাইমটাইম শো বাধ্যতামূলক করা, সিনেমা শিল্পের সর্বজনীন উন্নয়নের লক্ষ্য।

বাংলা সিনেমাকে প্রায়শই বঞ্চিত করে রেখেছিল বলিউড ও দক্ষিণী ছবির বাজার আধিপত্য। এই নির্দেশিকা সেই অবস্থার পরিবর্তনে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। 

সিনেমা ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে শক্তিশালী করতে শুধু নিয়মই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি মানসম্পন্ন ছবি নির্মাণ, কার্যকর প্রচার

এবং দর্শক আকর্ষণের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাইম টাইম বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ

না নিলে বাংলা ছবির বর্তমান সংকট কাটানো সম্ভব নয়। দর্শকরা যদি ভালো মানের ছবি না পান, তবে প্রদর্শনের নিয়ম কার্যকর রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে।

আগামী দিনে শিল্পী, পরিচালক ও প্রযোজকরা একত্রিত হয়ে নতুন ছবির মানোন্নয়ন, সিনেমা হল মালিকদের সহযোগিতা এবং

দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখার মাধ্যমে এই বাধ্যতামূলক নিয়ম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আশা করছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে প্রাইম টাইম শো

বাধ্যতামূলক করা নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। চ্যালেঞ্জ অনেক থাকলেও, সঠিক পরিকল্পনা ও  ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এর সফলতা নিশ্চিত।

0 Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *