যখন কণ্ঠ স্বপ্ন নয়, প্রযুক্তি
ভাবো তো — তোমার প্রিয় কণ্ঠশিল্পী, যিনি বহু বছর আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, হঠাৎ আবার নতুন গান গাইছেন!
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া সিনেমা সাইয়ারা–র টাইটেল ট্র্যাক আজকের প্রজন্মের প্লেলিস্ট কাঁপাচ্ছে। এর মধ্যেই কেউ AI Voices in Music টুল ব্যবহার করে গানটিকে ১৯৮০–এর দশকের আবহে কিংবদন্তি কিশোর কুমারের কণ্ঠে তৈরি করেছে।
ফলাফল? অবিশ্বাস্য! কানে শুনে কেউ বুঝতেই পারছে না যে কণ্ঠটি আসল নয় — যেন কিশোর কুমার নিজেই মাইক্রোফোনে দাঁড়িয়ে গাইছেন।
শুভ দিক – প্রযুক্তির আশ্চর্য জগৎ
স্মৃতি ফেরানো আমাদের হারানো শিল্পীদের কণ্ঠ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
সৃজনশীল স্বাধীনতা: শিল্পীরা যেকোনো যুগের স্টাইল, কণ্ঠ, এবং সাউন্ড মিশিয়ে নতুন ধরনের সঙ্গীত তৈরি করতে পারবেন।
কম খরচে প্রোডাকশন: বড় বড় স্টুডিওর প্রয়োজন ছাড়াই একজন সৃজনশীল ব্যক্তি নিজের ল্যাপটপে বিশ্বমানের গান তৈরি করতে পারবেন।
অশুভ দিক – ভয়ের ছায়া
- মানব শিল্পীর অবমূল্যায়ন: যখন AI নিখুঁতভাবে গাইতে পারে, তখন গায়কের নিজস্বতা কোথায় থাকবে?
- নৈতিকতা ও কপিরাইট: মৃত শিল্পীর কণ্ঠ অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা কি নৈতিক?
- শিল্পের মানবিক স্পর্শ হারানো: AI যতই নিখুঁত হোক, মানুষের অনুভূতি, শ্বাস, ভুল—এসবই গানকে জীবন্ত করে তোলে।
ভবিষ্যতের সুর
এই মুহূর্তে আমরা প্রযুক্তির এক সংবেদনশীল বাঁকে দাঁড়িয়ে আছি। AI শুধু গান নয় — গল্প, সুর, এমনকি আবেগও তৈরি করছে। প্রশ্ন হলো — আমরা কি এই প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করব, নাকি প্রযুক্তি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে?
কিশোর কুমারের ‘নতুন’ গান যেমন আমাদের হাসায়, তেমনি মনে করিয়ে দেয় — সময় এসেছে শিল্প, নৈতিকতা আর প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় খুঁজে পাওয়ার।
না হলে একদিন হয়তো মানব কণ্ঠ শুধুই ইতিহাসের পাতায় থাকবে, আর গান গাইবে কেবল যন্ত্র।
0 Comments